ব্লগিং করে মাসে হাজার টাকা ইনকাম করুন

শুধুমাত্র ব্লগিং করে মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব! হ্যাঁ একদমই ভুল বলতেছি না। আপনার শখের বশে করা ব্লগিং হতে পারে আপনার ক্যারিয়ার! আজকের এই আর্টিকেলে আপনাদের সাথে কিছু ব্লগিং আইডিয়া শেয়ার করব যেগুলোর মাধ্যমে আপনারা ঘরে বসে মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
ব্লগিং করে টাকা ইনকাম

ব্লগিং, এক কথায় বলতে গেলে কোন বিষয়ে আপনি দক্ষ হলে বা সেই বিষয়ে আপনার কোন জ্ঞান থাকলে বা সেই বিষয় নিয়ে আপনি কোন সৃজনশীল লিখনী প্রকাশ করাই হলো ব্লগিং।

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, দক্ষতা বা সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে ব্লগিং একটি দুর্দান্ত প্ল্যাটফর্ম। সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও হাজার হাজার ব্লগার প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এমনকি ইতোমধ্যে অনেকেই ব্লগিংকেই তার ক্যারিয়ার হিসেবে নির্ধারণ করেছে। কিন্তু কিভাবে?

যথাযথ প্ল্যান প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্লগিং করতে পারলে আপনিও মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন শুধুমাত্র লেখালেখি করে তাও আবার ঘরে বসেই। আর একটা কথা বলে রাখি, ব্লগিং করতে আপনার একটি দামি কম্পিউটার থাকতে হবে এটা নয়; আপনার হাতে থাকে স্মার্টফোনের মাধ্যমে আপনি ব্লগিং করতে পারবেন আর ইনকাম তো অবশ্যই।

আরো দেখুন –

ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার A-Z গাইডলাইন!

কেন ডিজিটাল মার্কেটিং করবেন? ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব

কোন ধরনের ব্লগিং করে ইনকাম করা যায়:

ব্লগিং প্লাটফর্ম সম্পর্কে উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবেনা। সমষ্টিগত ভাবে ব্লগিং করে ইনকাম করার কয়েকটি সেক্টর নিয়ে আজকে আলোচনা করবো এবং এই ধরনের ব্লগিংয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি ইনকাম করতে পারবেন। যেমন:

  • পার্সোনাল ব্লগিং
  • হিডেন ব্লগিং
  • গেস্ট ব্লগিং বা আর্টিকেল রাইটিং
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

পার্সোনাল ব্লগিং করে টাকা ইনকাম:

প্রথমেই পার্সোনাল ব্লগিং, পার্সোনাল ব্লগিং বলতে বোঝাচ্ছে একটি ব্যক্তিগত ব্লগিং যেখানে আপনি নিজে লিখালিখি করবেন। যেটি হতে পারে গল্প, উপন্যাস, কবিতা থেকে শুরু করে রাজনীতি, প্রযুক্তি বা টিউটোরিয়াল বিষয়ক লিখালিখি। পার্সোনাল ব্লগিং করার জন্য আপনার প্রথমত একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি আমার মতো ব্লগার থেকে ফ্রিতে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারেন। পার্সোনাল ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে ইনকামের প্রধান সোর্স হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখানো।

ইউনিক ও কপিরাইট ফ্রি আর্টিকেল লিখে আপনি সহজে আপনার ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স এড করতে পারবেন। এছাড়াও গুগল এডসেন্সের পাশাপাশি এর বিকল্প হিসেবে আরও অনেক ধরনের এড নেটওয়ার্ক রয়েছে যেগুলোতে কেউ আপনি বিজ্ঞাপন দেখি আপনার ওয়েবসাইট থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

আরও দেখুন: এডসেন্স এডস লিমিট কেনো হয়?

তবে গুগল এডসেন্স কে বলা হয় সোনার হরিণ! মোটামুটি ভালো মানের একটি ব্লগ থেকে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে মাসিক ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

হিডেন ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম:

হিডেন ব্লগ? নামটা হয়তো আপনাদের সবার কাছে অপরিচিত লাগতেছে। লাগারই কথা তবে আমরা কিন্তু অনেক সময়ই হিডেন ব্লগ ইউজ করেছি, তবে এটার কোন ভালো নাম খুঁজে পাচ্ছিলাম না তাই আমি এটার নাম দিয়ে দিলাম হিডেন ব্লগ।

এই হিডেন ব্লগকে আপনারা আবার একটি পার্সোনাল ব্লগও বলতে পারেন। হিডেন ব্লগের জাস্ট আপনার ব্লগের আর্টিকেলগুলো হিডেন থাকবে, সবাই আপনার আর্টিকেলগুলো পড়তে পারবে না। যারা আপনার আর্টিকেলটি পড়তে চাইলে তাদেরকে আপনার ওয়েবসাইটের মেম্বার হতে হবে। আপনার সাইটে এজন্য রেজিস্ট্রেশন ও লগইন অপশন চালু রাখতে হবে। আপনার আর্টিকেলগুলো পড়তে চাইলে বা আপনার ব্লগের মেম্বার হতে চাইলে পেমেন্ট করতে হবে। যারা পেমেন্ট করে আপনার ওয়েবসাইটে মেম্বার হবে তারাই শুধু আপনার ব্লগের আর্টিকেলগুলো পড়তে পারবে। এটাই হলো হিডেন ব্লগ বা মেম্বারশিপ ব্লগের মাধ্যমে ইনকাম করার পদ্ধতি।

তবে আপনার আরেকটি বিষয় কি খেয়াল করেছেন? পার্সোনাল ব্লগের থেকে হিডেন ব্লগ থেকে দ্বিগুন টাকা ইনকাম করা যাবে! প্রথমত আপনি মেম্বারশিপ থেকে কিছু টাকা ইনকাম করতে পারবেন আবার আপনার ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্সও ব্যবহার করতে পারবেন! সো দেরি না করে, এই আইডিয়াটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন। আরো দেখুন কিভাবে ফেসবুক থেকে টাকা আয় করবেন?

গেস্ট ব্লগিং বা আর্টিকেল রাইটিং করে ইনকাম:

আর্টিকেল রাইটিং ও গেস্ট ব্লগিং

গেস্ট ব্লগিং অর্থাৎ অন্যের ওয়েবসাইটে ব্লগ প্রকাশ করা। আর সেই ওয়েবসাইট আপনাকে আপনার আর্টিকেলের উপর টাকা প্রদান করবে। পার্সোনাল ব্লগিংয়ের থেকে গেস্ট ব্লগিং এর একটি সুবিধা হল: এতে আপনার নিজের ওয়েবসাইট থাকার কোনো দরকার নেই।

আর গেস্ট ব্লগিং ও আর্টিকেল রাইটিং এর মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে। গেস্ট ব্লগিং করলে আপনার লিখাটি সরাসরি অন্যের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে, আর আর্টিকেল রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে আপনার আর্টিকেলটি সেল করতে হবে। আর্টিকেল রাইটিং এর ক্ষেত্রে আপনি পে পার আর্টিকেল হিসেবে টাকা পাবেন। একটি ভাল মানের আর্টিকেল ৫ ডলার থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে অবশ্যই বাংলা আর্টিকেলের থেকে ইংরেজি আর্টিকেলের সম্মানী বেশি। আপনি চাইলে বাংলাদেশি গেস্ট ব্লগিং প্লাটফর্ম ট্রিকবিডিটেকটিউনস থেকে ইনকাম করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ঘরে বসে আয় করুন:

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শব্দটার সাথে আমরা মোটামুটি কমবেশি সবাই পরিচিত। এক কথায় বলতে গেলে বিজ্ঞাপন বা স্পন্সর ব্লগিংকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা যায়। ধরুন আপনি আইফোন ১১ এর রিভিউ নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখলেন, আর সেই আর্টিকেলে একটি লিংক দিয়ে দিলেন। সেই লিংকে ক্লিক করে কেউ আইফোন ১১ টি কিনলে আপনি পণ্যের মূল্যের শতকরা হিসেবে কিছু মুনাফা পাবেন। সহজ ভাষায় এটাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

আরও দেখুন: ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার ৫টি উপায়!

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চাইলে আপনার নিজের একটি ওয়েবসাইট থাকলে ভালো, না থাকলেও আপনি আপনার ফেসবুকের মাধ্যমেও মার্কেটিং করতে পারবেন। মোটকথা লিংকে ক্লিক করে কেউ পণ্য কিনলে আপনি সেটা থেকে মুনাফা পাবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং


আর ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি পরিমাণ টাকা ইনকাম করা সম্ভব অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে। ধরুন আপনাকে একটি পণ্য বিক্রির ১০ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে, তাহলে একবার ভাবুন পণ্যটির দাম এক লাখ টাকা হলে আপনি ১০ হাজার টাকা মুনাফা পাচ্ছেন। বর্তমান সময়ের সবথেকে জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের প্ল্যাটফর্ম হলো অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম। 

শেষ কথা:

আশা করি ব্লগিং কিভাবে আপনার ক্যারিয়ার হতে পারে সেটি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পেয়েছেন। আর পাশাপাশি ব্লগিং করে কিভাবে মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব সেই বিষয়টিও ক্লিয়ার হয়ে গেছে। 

ব্লগিং করে মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করার এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে কোন জানার বিষয় থাকলে কমেন্ট করুন আর অবশ্যই আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন।
হ্যাপি ব্লগিং!

Article Top Ads

Ad Middle Article 1

Ad Middle Article 2

Ads Under Articles