Kinemaster - মোবাইলের জন্য সেরা ভিডিও এডিটিং অ্যাপ

মোবাইলের জন্য সেরা ভিডিও এডিটিং অ্যাপ

 বর্তমান যুগে ডিজিটালাইজেশনের যুগ যেখানে মাল্টিমিডিয়ার ক্ষেত্রে ভিডিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটা সময় ছিল যখন ভিডিও এডিট করার জন্য হাই কনফিগারেশনের পিসি আর হেভি ওয়েট সফটওয়্যার লাগতো। সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন আর পি স্মার্ট অ্যাপগুলো ভিডিও এডিটিংকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। বঙ্গ উইকির আগের একটি আর্টিকেলে আমরা ৫টি সেরা মোবাইলের জন্য ভিডিও এডিটিং অ্যাপ নিয়ে কথা বলেছিলাম।

তার মধ্যে একটি ছিল Kinemaster ভিডিও এডিটর। আর আমরা সেই আর্টিকেলের লিস্টে Kinemaster কেই #১ নম্বরে রেখেছিলাম।

কিন্তু কেনো?

মূলত Kinemaster এ যাবত কালের মোবাইল ডিভাইসের জন্য সবথেকে সেরা ভিডিও এডিটিং অ্যাপ, এটা নিয়ে কারোর কোন সন্দেহ নেই। এ পর্যন্ত গুগল প্লে স্টোরে Kinemaster অ্যাপটি ডাউনলোড করা হয়েছে ৫০ মিলিয়নেরও বেশি বার!

১০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ৫টি স্মার্টফোন ২০২০

বাংলাদেশসহ বাইরের অনেক ইউটিউবার রয়েছে যারা মোবাইলে কাইনমাস্টারের মাধ্যমেই প্রতিনিয়ত ভিডিও এডিট করে তাদের চ্যানেলে দিচ্ছে।

তাই আজকের এই আর্টিকেলে বঙ্গ উইকি আলোচনা করতে যাচ্ছে কাইনমাস্টারের বিশদ বিবরণ নিয়ে; যার কারণেই কাইনমাস্টার সেরা

আসুন প্রথমে Kinemaster ফিচার গুলো এক নজরে দেখে নিন:

  • ইউনিক ইন্টারফেস
  • ডিভাইস কম্পিবিলিটি
  • ৪কে ভিডিও এডিটিং
  • ১০৮০ পি ভিডিও এক্সপোর্ট
  • ৬০ এফপিএস ভিডিও এক্সপোর্ট
  • কালার গ্র্যাডিয়েন্ট
  • ট্রানজিশন ইফেক্ট
  • টেক্সট
  • টেক্সট ইফেক্ট
  • স্লো/ফাস্ট মোশন
  • মাল্টি লেয়ার
  • ক্রোমা কী
  • স্টিকার
  • মিউজিক
  • ভয়েস ওভার
  • ভলিউম এনভেলাপমেন্ট
  • কী ফ্রেম
  • নিজস্ব ইফেক্ট, মিউজিকের স্টোর ইত্যাদি..

প্রথমত বলতে হচ্ছে কাইনমাস্টারের ইন্টারফেস রয়েছে এটা অন্যান্য ভিডিও এডিটরের থেকে একদম ইউনিক। পাশাপাশি ইন্টারফেসটি অনেক ইউজার ফ্রেন্ডলি, সবকিছু একদম সাজানো-গোছানো। যার ফলে যে কোন ব্যক্তি কোন প্রকার এক্সপেরিয়েন্স ছাড়াই কাইনমাস্টারের মাধ্যমে এডিট করতে পারবে।

কাইনমাস্টার অ্যাপটি ইন্সটল করার পরেই ডিভাইসের সাথে কম্পিটেবল করে নেয়। এতে করে ডিভাইসের সাথে কাইনমাস্টারের বুস্ট ও প্রমট (prompt) হয়ে যায়। এর ফলে ওই ডিভাইসের সাথে স্মুথলি ভিডিও এডিট করা যায়। যদিও লো ফিচারস ডিভাইসে কাইনমাস্টারের কিছু বিষয় সাপোর্ট করে না। যেমন: মাল্টি লেয়ার, ক্রোমা কী, কিছু ট্রানজিশন, স্টিকার ইত্যাদি সাপোর্ট করে না ১/২জিবি র্যামের (RAM) বা লো কোয়ালিটি সিপিইউ'র ডিভাইসে।

ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে ?m=1 রিমুভ করুন

আপনার ফোনে থাকা যেকোনো ভিডিও কাইনমাস্টারের মাধ্যমে এডিট করতে পারবেন। এছাড়া আপনি তো ফটো দিয়ে স্লাইডশো টাইপের ভিডিও বানাতে পারবেনই। কাইনমাস্টার 4k পর্যন্ত ভিডিও এডিটিং সাপোর্ট করে আর 60fps এবং 1080p পর্যন্ত ভিডিও এক্সপোর্ট করতে সক্ষম। 4k ভিডিও সাপোর্ট করার ফলে বিভিন্ন ধরনের ইফেক্ট অত্যন্ত সুক্ষভাবে দেওয়া যাবে, বিশেষ করে 4k ভিডিওতে স্লো মোশন অনেক ভালোভাবে কাজ করে।

কাইনমাস্টারে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কালার গ্রেডিয়েন্ট। এগুলোর মাধ্যমে খুব দ্রুত আপনি আপনার ভিডিওকে সিনেমাটিক লুক দিতে পারবেন। এসব কালার গ্রেডিয়েন্ট থাকার কারণে আপনার ভিডিওটি দেখতে যেমন সুন্দর হবে তেমনি এডিট করার সময় সময় অনেক কম লাগবে, কারণ এক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি কিছুই করতে হবে না, শুধুমাত্র একটি ক্লিকেই হয়ে যাবে।

প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ভিডিও এডিট করতে হলে ট্রানজিশন ইফেক্ট'র কোন বিকল্প নেই। মূলত ট্রানজিশন ইফেক্ট হলো একটি ক্লিপ থেকে অন্য একটি ক্লিপ কিভাবে দেখাবে সেই ইফেক্ট। কাইনমাস্টারে রয়েছে অসংখ্য প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ট্রানজিশন ইফেক্ট। এগুলোর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার ভিডিওকে সিনেমাটিক লুক দিতে পারবেন। এছাড়াও আপনি ট্রানজিশন ইফেক্টটি কতটুকু সময় ধরে থাকবে সেটিও ঠিক করে দিতে পারবেন।

ভিডিওতে অবশ্যই টেক্সট থাকা জরুরি, এক্ষেত্রে কাইনমাস্টার যেন একটু কার্পণ্য করেনি। কাইনমাস্টার রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর ফন্ট যেগুলোর মাধ্যমে আপনি যেকোন টেক্সটকে এক অনন্য রূপ দিতে পারবেন। এছাড়াও টেক্সটের বিভিন্ন ধরনের ইফেক্ট রয়েছে। যেমন: লেখাটি কিভাবে শুরু হবে, লেখাটা কেমন করবে বা লেখাটি শেষ কিভাবে হবে; এর সবকিছুই করতে পারবেন আপনি কাইনমাস্টারের মাধ্যমে। এমনকি আপনি চাইলে কাইনমাস্টারে বাংলা ফন্ট ইন্সটল করতে পারবেন। যার মাধ্যমে আপনি সহজেই বাংলায় সুন্দর সুন্দর ফন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে ফেসবুক স্ট্যাটাস ভিডিও বানাতে পারবেন।

ফ্রীতে ডাউনলোড করুন InShot Pro

বিশেষ করে যারা টিকটক, লাইকি বা শর্ট ভিডিও বানায় তাদের জন্য এই স্লো মোশন, ফাস্ট মোশন অনেক দরকারি একটি বিষয়। এ পর্যন্ত আমি যতগুলো অ্যাপ দিয়ে স্লো মোশন ভিডিও বানানোর চেষ্টা করেছি তারমধ্যে কাইনমাস্টার বেস্ট। আপনি একটি 4k ভিডিও নিয়ে স্লো মোশন করে যদি 60fps এ এক্সপোর্ট করেন তাহলে কেউ বুঝতেই পারবে না ম্যানুয়ালি এটা স্লো মোশন করা হয়েছে।

একটি ভিডিওর উপর আরেকটি ভিডিও বা ইমেজ বসানোকে কাইনমাস্টারের ক্ষেত্রে লেয়ার বলা হচ্ছে। আপনার ডিভাইসটি যদিও ভালো হয়ে থাকে তাহলে কাইনমাস্টার সর্বোচ্চ ১০টি প্লেয়ার পর্যন্ত সাপোর্ট করে। অন্যান্য ভিডিও এডিটর গুলোতে এতটা লেয়ার সাপোর্ট করেনা পাশাপাশি স্মুথ ভিডিও এডিট করা যায় না।

তাছাড়া কাইনমাস্টারের মাধ্যমে ক্রোমা কী ব্যবহার করে আপনি ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করতে পারবেন। আমরা যেসব ভিডিও এডিটর অ্যাপ গুলো দেখি সেগুলোতে মূলত ক্রোমা কী ফিচারটি থাকেনা বা থাকলেও ঠিকমতো কাজ করে না। ক্রোমা কী ফিচারটি ব্যবহারের জন্য আপনার ভিডিও লেয়ারটির ব্যাকগ্রাউন্ড এক কালার হতে হবে এক্ষেত্রে সবুজ হলে সব থেকে ভালো রেজাল্ট আসবে।

একটা ভিডিওতে অনন্য মাত্রা যোগ করে তার মিউজিক। কাইনমাস্টারে আপনি একাধিক মিউজিক যোগ করতে পারবেন এবং খুব পারফেক্টলি সেগুলোর সাউন্ড ঠিকঠাক করতে পারবেন। এই বিষয়টাকে কাইনমাস্টারে ভলিউম এনভেলাপ বলা হয়। এর মাধ্যমে আপনি ভিডিওর নির্দিষ্ট জায়গায় ভলিয়ম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন বা কমাতে - বাড়াতে পারবেন। এই ফিচারটি কিন্তু কাইনমাস্টার ছাড়া অন্য কোন ভিডিও এডিটর পাবেন না।

কাইনমাস্টারে রয়েছে ভয়েস ওভার। যেটার মাধ্যমে আপনি ভিডিও দেখে দেখে আপনার ভোকাল রেকর্ড করতে পারবেন। বিশেষ করে যারা গেমিং ও ডাবিং ভিডিও বানায় তাদের জন্য এই টুলটি অত্যন্ত জরুরী।

এছাড়াও ভিডিওর ভোকাল ও মিউজিক ইফেক্ট রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার ভোকাল সহজে এডিট করতে পারবেন।

ভিডিও ক্লিপ অনেক সময় প্রিমিয়াম লুক দেওয়ার জন্য ফ্রেমের মধ্যে সরানো, ছোট- বড় করার দরকার পরে। এক্ষেত্রে আপনি কাইনমাস্টারের কী ফ্রেম (Key Frame) ফিচারটি ব্যবহার করতে পারেন।

কাইনমাস্টার এর নিজস্ব একটি ইফেক্ট স্টোর। এই ইফেক্ট স্টোরে আপনি বিভিন্ন ধরনের ইফেক্ট, কালা গ্রেডিয়েন্ট, ট্রানজিশন ইফেক্ট, মিউজিক ক্লিপ, সাউন্ড ক্লিপ ইত্যাদি পাবেন। সেগুলো ডাউনলোড করার মাধ্যমে আপনি আপনার ভিডিওতে সেগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

এই ছিল আমাদের কাইনমাস্টার নিয়ে বিশদ আলোচনা, কাইনমাস্টারের প্রিমিয়াম ভার্সন ছাড়া এক্ষেত্রে কিছু ইফেক্ট আপনি ব্যবহার করতে পারবেন না উল্লেখ্য ভিডিও এডিট করার পর তাদের ওয়াটারমার্ক থেকে যাবে। এজন্য আপনাকে Kinemaster Premium ব্যবহার করতে হবে।

কাইনমাস্টার নিয়ে বিশদ এই আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, kinemaster সেরা। কাইনমাস্টারকে সীমিত আকারে মোবাইলের জন্য এডোবি প্রিমিয়ার প্রো বলা যায়।

মূলত kinemaster তার ফিচার, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এর উপর ভিত্তি করেই মোবাইলের জন্য সেরা ভিডিও এডিটিং অ্যাপ।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে কমেন্ট করে জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন। চাইলে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত হতে পারেন।

Article Top Ads

Ad Middle Article 1

Ad Middle Article 2

Ads Under Articles