Skip to content Skip to sidebar Skip to footer

Before Post

যে কাজগুলো করলে ফেসবুক আইডি কখনোই হ্যাক হবে না

ফেসবুক আইডি হ্যাক থেকে বাঁচার উপায়

বিশ্বে এখন সবথেকে বেশি ব্যবহৃত সোশ্যাল সাইট হলো ফেসবুক। এমনকি আমাদের বাংলাদেশেই ৩ কোটির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাই এই বিশাল কমিউনিটির প্রতি হ্যাকারদের সবসময় চোখ থাকে।

ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার অনেক খবর আমাদের কানে আসে। অনেক সময় দেখা যায় ফেসবুক আইডি হ্যাক করার পর হ্যাকাররা ইউজারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে। মূলত ফেসবুক হ্যাক করা অত সহজ কাজ না, তাহলে কেন ফেসবুক আইডি হ্যাক হচ্ছে?

উত্তরটা সহজ, মূলত আপনার নিজের কিছু বোকামি ও অসতর্কতার কারণেই আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হতে পারে। আজকের আর্টিকেলে আমরা এমন কিছু কাজ ও কৌশল সম্পর্কে জানবো সেই কাজগুলো করলে আর পাশাপাশি সতর্ক থাকলে কখনোই আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হবে না।

কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন

অনেকেই সহজে লগইন করার জন্য একদম সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে যেমন: 123456,456789,135780 । এধরনের পাসওয়ার্ড কোন ভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। কোন হ্যাকার যদি ম্যানুয়ালি ট্রাই করে তাহলেই এই পাসওয়ার্ডগুলো সহজেই জানতে পারে। তাই শুধু নাম্বার ব্যবহার করে কখনোই পাসওয়ার্ড দিবেন না। পাসওয়ার্ড দিবেন নাম্বার, ছোট হাতের অক্ষর, বড় হাতের অক্ষর ও বিভিন্ন চিহ্নের সমন্বয় করে। যেমন একটি কঠিন পাসওয়ার্ড হতে পারে AmAπsonaRBAngL@42 এধরনের পাসওয়ার্ড হ্যাকাররা কোনো পাসওয়ার্ড জেনারেটর টুলস দিয়েও সহজে ক্যাচ করতে পারবে না।

আর কখনোই কিবোর্ড বিন্যাস অনুযায়ী পাসওয়ার্ড দিবেন না। বিভিন্ন পাসওয়ার্ড জেনারেটর টুল সবার প্রথম কিবোর্ড বিন্যাস অনুযায়ী পাসওয়ার্ডগুলো ট্রাই করে।

দেখুন: Breadcrumb কি? ব্লগারে Breadcrumb সমস্যার সমাধান

ফেসবুক আইডিতে অবশ্যই মেইল যোগ করবেন

বিশেষ করে দেখা যায় আমাদের অনেকের ফেসবুক আইডিতে ইমেইল অ্যাকাউন্ট যোগ করা থাকে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শুধু ফোন নাম্বার দিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করা থাকে। কিন্তু একটা জিনিস আমাদের মাথায় রাখতে হবে আপনার যখন কোনো অযাচিত লোকেশন থেকে অ্যাকাউন্টে অ্যাক্সিস নেওয়ার চেষ্টা করা হবে তখন ইমেইলে নোটিফিকেশন মেইল আসে।

কিন্তু আপনার আইডিতে যদি শুধু ফোন নাম্বার থাকে তাহলে কখনোই অযাচিত লোকেশন থেকে অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস নেওয়ার চেষ্টা করলে আপনি জানতে পারবেন না। কাজী আপনার ফেসবুক আইডিতে একটি ইমেইল দিয়ে ভেরিফাই করে নিন।

টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করে নিন

টু স্টেপ ভেরিফিকেশন হলো দুই ধাপের নিরাপত্তা। এতে করে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জানলেও আপনার আইডিতে লগইন করতে পারবে না। আইডিতে লগইন করতে হলে আপনার ফোন নাম্বারে আসা এসএমএস কোডটি দিতে হবে। যেকোনো অ্যাকাউন্টকে হ্যাকার থেকে রক্ষা করতে সবথেকে কার্যকরী কাজ হল এই টু স্টেপ ভেরিফিকেশন।

এই লিংকে ক্লিক করে আপনার ফেসবুক আইডিতে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করে নিন।

আইডিতে ট্রাস্টেড কন্টাক্ট যোগ করুন

ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ট্রাস্টেড কন্ট্যাক্টস যোগ করা। ট্রাস্টেড কন্ট্যাক্টস হলো এমন একটি বিষয় যেখানে আপনার বিশ্বাসযোগ্য বা কাছের মানুষদের আইডি যোগ করতে পারেন। এতে করে আপনার আইডিতে কোন অযাচিত কার্যকলাপ হলে ট্রাস্টেড কন্টাক্ট থেকে আপনার আইডিতে এক্সেস নেওয়া যাবে।

এই লিংকে ক্লিক করে আপনার আইডিতে তিনজন ট্রাস্টেড কন্টাক্ট যোগ করে নিন।

ফিশিং লিংক থেকে সতর্ক থাকুন

ফেসবুক হ্যাকিং এর সবথেকে বড় পাওয়া হচ্ছে ফিশিং। বেশিরভাগ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয় এই ফিশিং করার মাধ্যমেই। ফিশিং হলো কোনো একটা লিংক যেটাতে আপনি ক্লিক করলে তাদের কাছে আপনার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড চলে যায়!

ফেসবুক আইডি হ্যাক

তাই ফেসবুক থেকে সবসময় কোনো লিংকে ঢুকার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। ফিশিং লিংক মূলত লোভনীয় টাইটেলের হয়ে থাকে। আপনারা হয়তো ইদানিং কমেন্ট সেকশনে বিকাশে টাকা ইনকামের বিভিন্ন লিংক দেখতে পারেন। এগুলোই কিন্তু ফিশিং!

তাছাড়া অনেক সময় দেখা যায় কিছু অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ফেসবুকের মাধ্যমে লগইন (Log In With Facebook) অপশন থাকে। এসব জায়গায় লগইন করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।

এছাড়া ফেসবুকের বিভিন্ন গেইম, টুলস, প্রশ্ন উত্তর, সিক্রেট ম্যাসেজে লগইন করলেও আপনার পাসওয়ার্ড চলে যেতে পারে তাদের কাছে।

গুরুত্বপূর্ন তথ্য হাইড করে রাখুন

অবশ্যই আপনার ইমেইল, ফোন নাম্বার ও জন্ম তারিখ হাইড (only me) করে রাখবেন। এতে করে হ্যাকাররা আপনার অ্যাকাউন্টের ক্লোন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবে না।

ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার অবশ্যই লক করে রাখবেন, সম্ভব হলে অনলি মি করে রাখবেন। তার থেকেও বেশি নিরাপত্তা হয় যদি আপনি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি লক করে রাখেন।

সঠিক তথ্য দিয়ে ফেসবুক আইডি খুলুন

অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় আমরা আমাদের বাস্তব নাম, জন্ম তারিখ বা অন্যান্য তথ্য ঠিক না রেখে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তৈরি করি। এক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো কারনে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হলে বা ডিজেবল হলে সেটি ফিরিয়ে আনতে পারবেন না। কারণ আপনার ডকুমেন্টের সাথে আপনার ফেসবুকে দেওয়া তথ্যের কোন মিল নেই। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় অবশ্যই সঠিক তথ্য দিবেন, বিশেষ করে আপনার জন্ম সনদ, পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয় পত্রের সাথে মিল রেখে আইডির নাম এবং জন্মতারিখ দিবেন।

দেখুন: ব্লগিং করে মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করুন

শেষ কথা: এই কয়েকটি কাজের মাধ্যমে আপনি আপনার একাউন্টের নিরাপত্তা বাড়িয়ে নিতে পারেন। কিছুদিন পর পর ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা বুদ্ধিমানের কাজ। ফেসবুকে অত্যন্ত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করাই উত্তম কারণ ফেসবুক একটি থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট, কেন আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য গুলো তৃতীয় ব্যক্তির কাছে রাখবো!

উপরের কাজগুলো করলে আশা করা যায় কখনোই আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হবে না।কখনোই আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হবে না। ফেসবুক হ্যাকিং সংক্রান্ত এই আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন আপনার বন্ধুদের সাথে আর চাইলে আমাদের ফেসবুক পেইজেফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত হতে পারেন। হ্যাপি ফেসবুকিং...