এডসেন্স এডস লিমিট কি? এডস লিমিট হওয়ার কারণ

যারা ব্লগিং করে এডসেন্সের মাধ্যমে টাকা আয় করেন তাদের কাছে একটি পরিচিত শব্দ হলো এডস লিমিট। এডস লিমিট হলে সাধারণত আপনার সাইটে বিজ্ঞাপন শো করে না। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এডস লিমিট সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

এডস লিমিট

এডস লিমিট কি, এডস লিমিট কেনো হয় এবং এডস লিমিট থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে জানতে পারবেন।

এডস লিমিট কি?

এডসেন্স বিজ্ঞাপন সাইটে না দেখানো বা কম দেখানোকে এডস লিমিট বলা যায়। এডস লিমিটের বাংলা করলে বিজ্ঞাপন সীমা, অর্থাৎ বলা যায় সাইটে বিজ্ঞাপন সীমিত আকারে দেখানোই হলো এডস লিমিট।

এডস লিমিট হলে এডসেন্স থেকে এরকম মেইল আসে "Ads limit placed on your site" । এডস লিমিট হলে সাইটে কোনো বিজ্ঞাপন দেখায় না, বিজ্ঞাপন দেখালেও কোনো ইনকাম হবে না। এজন্য ব্লগারদের অনেক চিন্তার বিষয় হলো এডস লিমিট হওয়া।

আরও দেখুন: এডসেন্স পলিসি ভায়োলেশন হলে কি করবেন?

এডস লিমিট কেনো হয়?

গুগল এডসেন্স সবসময় এথিক্যাল ওয়েতে কাজ করে তাদেরকে প্রাধান্য দেয়। যারাই অসদুপায় অবলম্বন করে তাদেরকে শাস্তি স্বরূপ এডস লিমিট দেয়। এডস লিমিট হওয়ার প্রধান কারণ হলো সাইটের বিজ্ঞাপনে ইনভ্যালিড ক্লিক। নিচে এডসেন্সে এডস লিমিট হওয়ার কারণগুলো উল্লেখ্ করা হলো:

  • ইনভ্যালিড ক্লিক
  • নিজের বিজ্ঞাপনে নিজে ক্লিক
  • বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে বাধ্য করা
  • হঠাৎ বিজ্ঞাপনে ক্লিকের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া
  • ট্র্যাফিক বট বা ট্রাফিক এক্সচেঞ্জ করে ভিজিটর নেওয়া
  • সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বেশি ভিজিটর আসা
  • এডস প্লেসমেন্ট ঠিকমতো না করা

প্রথমেই বুঝতে হবে ইনভ্যালিড ক্লিক। অর্থাৎ ভুল পদ্ধতিতে কেও যদি উল্টাপাল্টা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে তাহলে CTR বেড়ে যাবে। CTR বেড়ে গেলে এডস লিমিট আসবে। ১০% এর বেশি CTR হলেই এডস লিমিট হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

অনেকেই নিজের বিজ্ঞাপনে নিজে ক্লিক করে আয় বাড়ানোর জন্য। কিন্তূ এতে হিতে বিপরীত হবে, নিজের বিজ্ঞাপনে নিজে ক্লিক করলে এডস লিমিট আসবে। এছাড়া একই আইপি থেকে বারবার এডে ক্লিক হলেও এডস লিমিট আসতে পারে।

অনেকেই চালাকি এমন ভাবে কনটেন্ট প্রকাশ করেন যেনো কনটেন্ট দেখতে গেলেও বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে হয়। এটা যেমন অনৈতিক তেমনিভাবে এটি ভিজিটরদের কাছে বিরক্তির কারণ। এছাড়াও অনেকে এডসেন্সের এড লিংক সরাসরি দেন এতে ক্লিক করলে আপনার ইনকাম হয়তো হবে। তবে একটা সময় ঠিকই এডস লিমিট আসবে।

হঠাৎ বিজ্ঞাপনে ক্লিকের পরিমাণ বেড়ে গেলেও এডস লিমিট আসতে পারে। ধরুন আপনার দিনে ৫ টি ক্লিক হয়, কিন্তু হঠাৎ করে একদিন ১০০ ক্লিক হলো। এটাকেও গুগল স্প্যাম হিসেবে ধরে নিতে পারে আর ফল স্বরূপ এডস লিমিট দিতে পারে।

অনেকেই ভাবে নিজে ক্লিক না করে ট্রাফিক বট বা ভিজিটর এক্সচেঞ্জ করে সাইটের ভিজিটর বাড়ায়। কিন্তু এরকম ট্রাফিক বটগুলো একই আইপি থেকে জেনারেট হয় এজন্য আপনার সাইটে আসা ভিজিটর যেমন স্প্যাম তেমনি ক্লিকও স্প্যাম হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য ট্রাফিক বট বা ভিজিটর এক্সচেঞ্জ করে ভিজিটর নিলেও এডস লিমিট হবে।

আমাদের মাঝে এই একটি ভুল অনেকেই করে থাকেন। যারা অর্গানিক ভিজিটরের কথা চিন্তা না করে শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাইটে ভিজিটর বাড়ায়। অর্গানিক ও সোশ্যাল মিডিয়া ভিজিটরের মধ্যে অনুপাত ঠিক থাকলে কোনো সমস্যা নেই। তবে অর্গানিক ভিজিটর একদম নেই, ৯০% ভিজিটর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তাহলেও এডসেন্স একাউন্ট এডস লিমিট হয়ে যাবে।

অনেকেই ইনকাম বাড়ানোর আশায় অনেক বেশি পরিমাণ এডস সাইটে বসায়। এতে ভিজিটর সাইটের কনটেন্টই ঠিকমতো দেখতে পারে না। অনেক সময় সঠিকভাবে এডস প্লেসমেন্ট না করার কারণে সাইটে এডস লিমিট হতে পারে।

এডসেন্স এডস লিমিট হলে কি করনীয়?

এডস লিমিট ছাড়ানোর জন্য কোনো আপিল বা এডসেন্সের কাছে ফিডব্যাক দেওয়ার সুযোগ নেই। এডস লিমিট হয় একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, তারপর আপনা আপনি এডস লিমিট উঠে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এডস লিমিট হলে সেটা একমাসের মধ্যে অটোমেটিক ঠিক হয়ে যায়।

এডস লিমিট হলে অবশ্যই এডস লিমিট হয় এরকম কাজ করা যাবে না। প্রথমত এডস লিমিট ছাড়ানোর জন্য ওইসময় সাইটে অবশ্যই অর্গানিক ভিজিটর আনতে হবে।

এডস লিমিট থেকে বাঁচার উপায়

এডস লিমিট থেকে বাঁচতে হলে কোনো ধরনের দুই নাম্বারী করা যাবে না। এথিক্যাল ওয়েতে আগাইতে হবে। নিজের বিজ্ঞাপনে নিজে ক্লিক করা যাবে না বা একই আইপি থেকে বারবার এডস ক্লিক করা যাবে না।

সবধরনের ইনভ্যালিড ক্লিক থেকে সাইটকে প্রোটেক্ট করতে হবে। এজন্য আপনার সাইটে CDN হিসেবে Cloudflare DNS ব্যাবহার করুন। Cloudflare DNS আপনার সাইটে সব ধরনের ইনভ্যালিড ক্লিক ও ট্রাফিক বটের বিরুদ্ধে প্রটেকশন করবে। উল্লেখ্য ক্লাউডফ্লেয়ার আপনার সাইটকে dDos এট্যাক থেকেও রক্ষা করবে।

কোনো ভাবেই ট্রাফিক এক্সচেঞ্জ করে সাইটে ভিজিটর আনবেন না। আর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এতো বেশি ভিজিটর নেয়ার দরকার নেই। অর্গানিক ভিজিটর আর সোশ্যাল মিডিয়া ভিজিটরের অনুপাত যেনো ঠিক থাকে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখুন।

দেখুন: ব্লগিং নাকি ইউটিউবিং? কোনটি থেকে বেশী ইনকাম

নিয়ম মেনে সঠিকভাবে এডস প্লেসমেন্ট করুন। সাজেশন থাকবে ১০০০ শব্দের আর্টিকেলে সর্বোচ্চ ৩/৪টি বিজ্ঞাপন বসান। কখনোই এডসের ডিরেক্ট লিংকে ক্লিক করবেন না বা এমনভাবে এড বসাবেন না যেনো এডসে ক্লিক করতেই হয়।

সর্বোপরি অর্গানিক ভিজিটর বাড়ানোর লক্ষ্যে সাইট সঠিকভাবে এসইও করুন। তাহলেই কখনোই এডসেন্স এডস লিমিট হবে না।

এই ছিলো আমাদের আজকের আর্টিকেল, এ আর্টিকেলে সহজ ভাষায় আলোচনার চেষ্টা করেছি এডস লিমিট কি? এডস লিমিট কেনো হয়? এডস লিমিট হলে কি করনীয় এবং এডস লিমিট থেকে বাঁচার উপায় এই বিষয়গুলো নিয়ে।

আশা করি, এডস লিমিট সম্পর্কে আর কোনো সমস্যা নেই। শেষ কথা সঠিক নিয়মে এডসেন্স থেকে আয়ের চেষ্টা করুন কখনোই এডস লিমিট আসবে না। হ্যাপি ব্লগিং...

Article Top Ads

Ad Middle Article 1

Ad Middle Article 2

Ads Under Articles