পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড আবেদন প্রক্রিয়া ২০২১

পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড

আসসালামু আলাইকুম, ফ্রিল্যান্সার ভাই বোনেরা কেমন আছেন? পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম, পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড অর্ডার, ডলার উইথ-ড্র করার নিয়ম এবং পেওনিয়ারের বাৎসরিক চার্জ সহ আপনার মনের সকল প্রশ্নের উত্তর পাবেন এই আর্টিকেলে।

পেওনিয়ার কার্ড কাদের জন্য?

পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড সবার জন্য প্রয়োজন যেহেতু এটা সহজেই পাওয়া যায় এবং ঝামেলা ও কম। ফ্রিল্যান্সিং এর টাকা বাংলাদেশে আনার সব থেকে সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ মাধ্যম হচ্ছে পেওনিয়ার। এছাড়াও অনলাইনে শপিং এবং ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে পেওনিয়ার কার্ড ই অন্যতম।

ফ্রিল্যান্সার না হলে পেওনিয়ার কার্ড নেয়া যাবে?

নিশ্চয়! তবে পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড অর্ডারের জন্য আপনার একাউন্টে ১০০ ডলার থাকতে হবে। কার্ড হাতে পেয়ে একটিভ করার পর ২৯ ডলার কার্ড এর চার্জ বাবত কেটে নিবে।

একাউন্ট খুললে কার্ড নেওয়া কি বাধ্যতামূলক?

ফিল্যান্সারদের জন্য কার্ড বাধ্যতা মূলক নয়। কার্ড ছাড়াই ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে উপার্জিত টাকা বাংলা দেশে নিয়ে আসতে পারবেন।

আমি এখনো টাকা আয় শুরু করিনি? আমি কি একাউন্ট খুলবো?

অবশ্যই! আগে থেকে খুলে রাখাটাই উত্তম। অনেকে আয়ের পর একাউন্ট নিয়ে জটিলতায় পড়ে যান। তবে মনে রাখবেন কোন ভুল তথ্য দিয়ে একাউন্ট করবেন না। নেশনাল আইডি কার্ড এবং আপনার ব্যাংক একাউন্ট একই নামে হতে হবে। একাউন্ট খোলা জন্য অবশ্যই আপনার নামে বংলাদেশে ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে।

পেওনিয়ার মাস্টার কার্ডে কিভাবে টাকা রিচার্জ করতে হয়?

ফিল্যান্সার হলে মার্কেট প্লেস থেকে আপনার ডলার আসবে। সেটা যে কোন মার্কেট হতে পারে। অন্যরা ফ্রিল্যান্সারদের থেকে ডলার কিনতে পারেন। সাধারণত মার্কেট রেট থেকে ৫ টাকা বা সেম রেটে অনেকেই ডলার বিক্রি করে থাকে। তবে ফ্রিল্যান্সাররা আয়ের ৫০% এর বেশি বিক্রি করাটা নিরাপদ নয়। একাউন্ট ব্লক হতে পারে। যেমন মাসে আপনার আয় ১০০ ডলার হেলে ৫০ ডলারের বেশি বিক্রয় করবেন না।

আরও দেখুন:

শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনে লেখাপড়া করার আল্টিমেট টিপস

সকল সিমে টাকা কাটার সার্ভিস বন্ধ করার কোড

মোবাইল ফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

এডসেন্স পলিসি ভায়োলেশন (Policy Violation) ঠিক করবেন কিভাবে?

ব্যাকলিংক কি? কিভাবে ব্যাকলিংক তৈরি করবেন?

পেওনিয়ার সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার থেকে কতটা সাশ্রয়ী? হলে কিভাবে?

আপনি যদি আমাকে আগে থেকে অনুসরণ করে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানেন যে, Freelancer এর জন্যে Payoneer টাকা লেন-দেন পদ্ধতি সবচেয়ে ভালো। আমরা অনেক পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করি, যার একটা বড় অংশ খরচ করতে হয় উপার্জিত টাকা আমাদের পকেটে আনতে।আমি ব্যক্তিগতভাবে Payoneer ছাড়া অন্য কোন টাকা লেন-দেন পদ্ধতি ব্যাবহার করি না। কারন Payoneer আমাকে দিচ্ছে সবচেয়ে ভালো রেট। যারা Upwork থেকে ব্যাংক লেন-দেন করছেন তারা প্রতি ডলারে ৩ থেকে ৪ টাকা কম পাচ্ছেন।

উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, আপনি Upwork থেকে ব্যাংক লেন-দেন করলে পরিশোধ করতে হবে এক ডলার এবং প্রতি ডলারে ৪ টাকা করে কম পাচ্ছেন। পাশাপাশি, Payoneerএ আপনি পাচ্ছেন প্রতি ডলারে ৪ টাকা বেশি আর খরচ হচ্ছে দুই ডলার।

পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড চার্জ

সুতরাং Payoneer এ খরচ হচ্ছে ১৬০ টাকা ফিক্সড, যেকোনো পরিমাণ টাকা লেন-দেন এর জন্যে, আর UP Workএ আপনাকে দিতে হবে ৮০ টাকা + প্রতি ডলারে ৪ টাকা। তাহলে বুঝতেই পারছেন ৫০ ডলারের জন্যে ২০০ টাকা প্লাস ৮০ টাকা। তবে এখানে কথা হচ্ছে Payoneer এ টাকা আসতে ৩-৪ দিন লাগতে পারে, যেখানে Upwork-এ এক দিনেই টাকাটা পেয়ে যাবেন। সুতরাং খুব অভাবে পরলে Upwork ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যাবহার করতে পারেন।

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার আগে যে বিষয় গুলো জানা জরুরী

আপনার নিজের নামে পেওনিয়ার একাউন্ট একবারই খুলতে পারবেন, সুতরাং কোন ফেক ইনফরমেশন ব্যবহার করবেন না।

পেওনিয়ার একউন্টে বা যে কোন মার্কেট প্লেসের একাউন্টের সিকিউরিটি প্রশ্ন এবং উত্তর ভুলে গেলে বিপদে পড়বেন ।

পেওনিয়ার রিসেন্টলি কারো কারো কাছে একাউন্ট ভেরিফিকেশনের জন্য পাসপোর্ট এর কপি চায়, সেক্ষেত্রে আপনার পাসপোর্ট থাকা ভালো। অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে ভিরিফিকেশনের জন্য পাসপোট লাগে তাই পাসপোর্ট করে নিতে পারেন। তবে স্মার্ট আইডি কার্ড থাকলে হয়তো পাসপোর্ট না হলেও চলবে।

পেওনিয়ার নিয়া আপনার ভুল ধারনাঃ

অনেকের ধারনা Payoneer অনেক টাকা বাৎসরিক চার্জ হিসাবে কাটে। এইটা পুরোপুরি সত্য না। কারন আপনি যদি Payoneer এর মাস্টার কার্ডটি না নেন তাহলে আপনাকে কোন বাৎসরিক চার্জ দিতে হবে না। আপনি মাস্টার কার্ডটি না নিয়েও Payoneerএর মাধ্যমে ব্যাংক লেন-দেন করতে পারবেন।আবার আপনি চাইলে রেজিস্টার করার পর যেকোনো সময় কার্ডের জন্যে অর্ডার করতে পারবেন। এই জন্যে আপনাকে বছরে প্রায় ২৯ ডলারের মত চার্জ দিতে হবে।

পেওনিয়ার ব্যাবহারদের সুবিধাঃ

আর একমাত্র Payoneerএর মাধ্যমে যদি ব্যাংক লেন-দেন করে টাকা আনেন তাহলে আপনি ব্যাংক এশিয়া থেকে রেভিনিউ সার্টিফিকেট নিতে পারবেন যেইটা আর কেউ দিতে পারবে না। আর এই সার্টিফিকেট Freelancer দের জন্যে কতটা মূল্যবান সেইটা নাহয় অন্যদিন বলি?


ভিডিও ক্রেডিট: টেক সজল

আর এই ভিডিও দেখে Account খুললে আপনি ৳২৫* ফ্রি পাবেন!!! তাহলে এই লিঙ্ক এ যেয়ে রেজিস্টার করুন আর ভিডিওতে দেখানো নিয়ম অনুশরন করুন। * ফ্রি ২৫ পেতে হলে আগে আপনাকে অবশ্যই যেকোনো ফ্রিলেঞ্চিং মার্কেট প্লেচ থেকে ১০০০ ডলার আয় করে সেইটা পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা তুলতে হবে। 

যেই কারণে আবেদন করার পর কার্ড আপনার ঠিকানায় আসবে নাঃ

আপনি যদি ভুল ঠিকানা দেন কার্ড আপনার হাতে কখনোই আসবে না, সুতরাং একাউন্ট তৈরি করার সময় ভালো লক্ষ্য করুন আপনি সঠিক তথ্য দিচ্ছেন কিনা। এই ছাড়া আপনি যদি ইতিপূর্বে পেওনিয়ার কার্ড এর জন্যে আবেদন করুন এবং একই ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিয়া আবার আবেদন করেন তাহলে আপনার কার্ড আসবে না। সেই ক্ষেত্রে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

আমার এখনো ১৮ বছর হয়নি বা ন্যাশনাল আইডি কার্ড নেই! কি করবো?

১৮ বছর না হলে আপনি কোন মাকের্টপ্লেসেই একাউন্ট করতে পারবেন না, সুতরাং পেওনিয়ার একাউন্ট না করাই ভালো। তবে মার্কেটপ্লেস এবং ব্যাক একাউন্ট বাবা বা মার নামে ব্যবহার করতে পারেন।

আমি গ্রামে থাকি? কার্ড কি আমার ঠিকানায় আসবে?

হ্যাঁ অবশ্যই, আপনি গ্রামে থেকেও কার্ড পাবেন। এজন্য আমার রেকমেন্ড থাকবে আপনি আপনার কার্ড শিপমেন্ট ঠিকানায় আপনার নিকটবর্তী শহরের ডাক অফিসের ঠিকানা দিবেন। এজন্য ডাক অফিসে একটু খোজ নিয়ে রাখলেই হবে।

আশা করি, আজকের এই আর্টিকেলে মোটামুটি সবকিছু ক্লিয়ার হয়েছে পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড ২০২১ নিয়ে।

Article Top Ads

Ad Middle Article 1

Ad Middle Article 2

Ads Under Articles